তবে সঠিক সময়ে বিয়ে করে পুরুষরাও চাইলে তাদের আয়ু বাড়াতে পারেন। এমনটাই বলছে আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষা।
আমাদের দেশে সাধারণত বিয়ের জন্য মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২২ বছর উপযুক্ত বয়স হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত নারীর তুলনায় পুরুষের গড় আয়ু কম। তবে সামাজিক প্রেক্ষাপটে মেয়েদের কম বয়সে এবং ছেলেদের বেশি বয়সে বিয়ে করাই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলেজ পার করে মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই ভালো ছেলের সঙ্গে বিয়ের দেওয়ার ধুম পড়ে। কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র! ছেলেরা বিশ্ববিদ্যালয় পেরিয়ে ভালো চাকরি পেয়ে সাবলম্বী হলে তবেই তো বিয়ের উপযুক্ত হবে-এমনটাই মনে করা হয়।
একেকজন বিয়ের জন্য একেক বয়স বেছে নেন। কেউ ২৫ এর আগেই বিয়ে সারেন। কেউবা ক্যারিয়ার গুছিয়ে ৩৫ এর পর এই যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু বিয়ের সঙ্গে আয়ুর সম্পর্ক কী? হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষা বলছে বিয়ের সঙ্গে নাকি আয়ুর যোগসূত্র রয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট বয়সে বিয়ে করলে নাকি আয়ু বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী করতে নারীদের ২৫ ও পুরুষের ৩০ বছরের মধ্যেই বিয়ে করা উচিত। তবে তার জন্য অবশ্যই আর্থিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে।
এই সমীক্ষায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৪৫ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অংশ নেন। দেখা যায়, সুখী বিবাহিত পুরুষের আয়ু অনেকটাই বেশি। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া পুরুষদের অনেকের বিয়ের পর ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে বা যার স্ত্রী মারা গিয়েছেন। আবার অনেক পুরুষ বিবাহিত জীবনে খুবই সুখী।
গবেষণা অনুযায়ী, সুখী বিবাহিত পুরুষরা এই ডিভোর্সি ও একাকি পুরুষের চেয়ে অনেকটাই বেশি সুস্থ। এমনকি যাদের স্ত্রী নেই, তাদের থেকেও বেশি বছর বাঁচেন বিবাহিত পুরুষরা।
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ২৫ বছর বয়সে যেসব পুরুষ বিয়ে করেন তারাই নাকি বেশি সুরক্ষিত। এর চেয়েও কম বয়সে বিয়ে করেন, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হয়। সমীক্ষায় দেখা যায়, অবিবাহিত পুরুষের থেকে বিবাহিত পুরুষরা বেশি সুখী। তারা বেশিদিন বাঁচেন ও সুস্থ থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স কম হলে মনের মতো সঙ্গী পাওয়ার সুযোগ বাড়ে। আর তাই নারীদের মতো পুরুষদের ক্ষেত্রেও ২৫ এর মধ্যে বিয়ে করলে মানানসই সঙ্গী পাওয়ার সুযোগ মিলবে বেশি।
এই সমীক্ষার তথ্য আরও জানাচ্ছে, যেসব পুরুষের শারীরিক সমস্যা আছে তারাও আগে বিয়ে করেন। তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের ঝুঁকিও কম থাকে। বিবাহবিচ্ছেদ হলেও তাদের মধ্যে আবার বিয়ে করার ইচ্ছে থাকে। অন্যদিকে সুস্থ বা যার কোনো শারীরিক সমস্যা নেই, তার ক্ষেত্রে এসব বিষয় তুলনামূলক কম।
জাপানের বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বিবাহিত পুরুষদের চেয়ে অবিবাহিত পুরুষের হৃদরোগের ঝুঁকি ৩ গুণ বেশি থাকে। অন্যদিকে বিবাহিত পুরুষের ডিপ্রেশনের ঝুঁকি কম থাকে অবিবাহিতদের তুলনায়।
বিবাহিত জীবনে সুখী হলে রক্তে শর্করার পরিমাণ ঠিক থাকে ও রক্তচাপজনিত সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে থাকে। অর্থাৎ, বিবাহিত জীবন সুখী হলে জীবনে দুশ্চিন্তাও কম থাকে। আর গবেষণা অনুযায়ী, জীবন নিয়ে যে যতটা সন্তুষ্ট থাকবেন, তার আয়ু ততটাই বাড়বে।